নির্বাচন ঝুলে থাকায় বাড়ছে অব্যবস্থাপনা, চুরি ও নানা অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ

খুটাখালী বাজারে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র খুটাখালী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত নির্বাচিত বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঝুলে থাকায় বাজার ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চুরি, অব্যবস্থাপনা ও নানা অপ্রীতিকর ঘটনা বেড়েই চলেছে।

খুটাখালী বাজার চকরিয়া উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। লবণ ও চিংড়ি বাণিজ্যের জন্য পরিচিত এই বাজার ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কমিটি না থাকায় বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের পর বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়। এরপর আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে বাজার পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হলেও ছয় মাস পার হলেও কোনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের কারণে নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। তাদের দাবি, দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হোক।

সূত্র জানায়, ভোটার হালনাগাদের জন্য প্রতি ভোটারের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে ফি আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হলেও বাজার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ী কাজী শহিদুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আবুল কালাম ও বদিউল আলম বকুলসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, বর্তমান অ্যাডহক কমিটি বাজারের উন্নয়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। মাছ বাজার হস্তান্তরের পর থেকে নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করা, ফুটপাত দখল, ভাসমান দোকান ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড স্থাপন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি নাইট গার্ডের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, বাজারে সংঘটিত চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার বা সালিশ হচ্ছে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাজারের আয়-ব্যয়েরও নিয়মিত নিরীক্ষা (অডিট) হয় না বলে দাবি তাদের।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শীষ মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হলেও বিভিন্ন কারণে এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমেই বাজার পরিচালিত হচ্ছে।

খুটাখালী বাজার ঐক্য সমবায় সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দীন বাবুল বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হোক। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের ভেতরের বিভিন্ন রাস্তা দখল হয়ে গেছে। নতুন কমিটি দায়িত্ব নিলে এসব সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাজার থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করা হলেও সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়, তা ব্যবসায়ীরা জানেন না। বাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর মতো পর্যাপ্ত প্রশস্ত সড়কও নেই। তাই বাজারের ভেতরের সড়ক সংস্কার ও দখলমুক্ত করা জরুরি।”

বাজার ঐক্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইডনুস বলেন, “নির্বাচিত কমিটি না থাকায় বাজারে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এমনকি একটি মানসম্মত পাবলিক শৌচাগারও নেই। দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, “ভোটার হালনাগাদের কাজ শেষ না হওয়ায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

চকরিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিটির প্রধান রমিজ আহমদ বলেন, “গঠিত কমিটির অসহযোগিতা এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে এতদিন নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যানকে দ্রুত ভোটার হালনাগাদের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। হালনাগাদ তালিকা হাতে পেলেই চলতি মাসের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।”